Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 4:28

[1] তারপর আমি স্বর্গ থেকে এক দূতকে নেমে আসতে দেখলাম। তাঁর হাতে ছিল সেই অতল-গহ্বরের চাবি ও একটি বড় শিকল।

[2] তিনি সেই দানবকে ধরলেন। এ সেই পুরোনো সাপ, যে হল দিয়াবল অপবাদকারী বা শয়তান বিপক্ষ। তিনি তাকে এক হাজার বছর বন্দি করে রাখলেন।

[3] তিনি তাকে সেই অতল-গহ্বরে নিক্ষেপ করে তার উপরে তালাবন্ধ করে সিলমোহরাঙ্কিত করলেন, যেন যে পর্যন্ত সেই হাজার বছর সমাপ্ত না হয়, সে জাতিসমূহকে প্রতারিত করতে না পারে। তারপরে তাকে অবশ্যই অল্প সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।

[4] পরে আমি কতগুলি সিংহাসন দেখলাম। সেগুলির উপরে যাঁরা উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। আর আমি তাদেরও প্রাণ দেখলাম, যীশুর সপক্ষে তাদের দেওয়া সাক্ষ্য ও ঈশ্বরের বাক্যের কারণে শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল। তারা সেই পশুর বা তার মূর্তির পূজা করেনি। তারা তার ছাপও তাদের কপালে কিংবা তাদের হাতে ধারণ করেনি। তারা পুনর্জীবন লাভ করে এক হাজার বছর খ্রীষ্টের সঙ্গে রাজত্ব করল।

[5] (অবশিষ্ট মৃতেরা সেই হাজার বছর সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, জীবন লাভ করল না) এই হল প্রথম পুনরুত্থান।

[6] ধন্য ও পবিত্র তারা, যারা প্রথম পুনরুত্থানের অংশীদার হয়। তাদের উপরে দ্বিতীয় মৃত্যুর কোনও ক্ষমতা নেই, কিন্তু তারা ঈশ্বরের ও খ্রীষ্টের যাজক হবে এবং তাঁর সঙ্গে এক হাজার বছর রাজত্ব করবে।

[7] সেই হাজার বছর সমাপ্ত হলে পর শয়তানকে তার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

[8] তখন সে গোগ ও মাগোগ নামে অভিহিত পৃথিবীর চতুর্দিশায় স্থিত জাতিদের গিয়ে প্রতারিত করে যুদ্ধ করার জন্য তাদের সমবেত করবে। সংখ্যায় তারা সমুদ্রতীরের বালুকার মতো।

[9] তারা পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল বরাবর যুদ্ধযাত্রা করে ঈশ্বরের প্রজাদের শিবির ও তাঁর প্রিয় নগরটি ঘিরে ধরল। কিন্তু স্বর্গ থেকে আগুন নেমে এসে তাদের গ্রাস করল।

[10] আর তাদের প্রতারণাকারী দিয়াবলকে প্রজ্বলিত গন্ধকের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল, যেখানে সেই পশু ও ভণ্ড ভাববাদীকেও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তারা যুগে যুগে চিরকাল, দিনরাত যন্ত্রণাভোগ করবে।

[11] এরপরে আমি এক বিশাল শ্বেতবর্ণের সিংহাসন ও তার উপরে যিনি বসে আছেন, তাঁকে দেখতে পেলাম। তাঁর উপস্থিতি থেকে পৃথিবী ও আকাশ পলায়ন করল। তাদের লুকানোর জন্য আর কোনো স্থান পাওয়া গেল না।

[12] আর আমি দেখলাম, সামান্য মহান নির্বিশেষে মৃত ব্যক্তিদের সেই সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর কতগুলি পুস্তক খোলা হল। অন্য একটি পুস্তক, অর্থাৎ জীবনপুস্তকও খোলা হল। মৃত ব্যক্তিরা সেই পুস্তকে লিখিত বয়ান অনুযায়ী, তাদের কৃতকর্ম অনুসারে বিচারিত হল।

[13] সমুদ্র তার মধ্যস্থিত মৃতদের প্রত্যার্পণ করল এবং পরলোক ও পাতালও তাদের মধ্যে স্থিত মৃতদের প্রত্যার্পণ করল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্ম অনুযায়ী বিচারিত হল।

[14] তারপর পরলোক ও পাতালকেও অগ্নিহ্রদে নিক্ষেপ করা হল। সেই অগ্নিহ্রদই হল দ্বিতীয় মৃত্যু।

[15] আর যে কারও নাম সেই জীবনপুস্তকে লিখিত পাওয়া গেল না, তাকেই অগ্নিহ্রদে নিক্ষেপ করা হল।

প্রকাশিত বাক্য — Chapters