Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 7:05

[1] এরপরে আমি অন্য এক দূতকে স্বর্গ থেকে নেমে আসতে দেখলাম। তিনি ছিলেন মহা কর্তৃত্বসম্পন্ন, পৃথিবী তাঁর ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল।

[2] তিনি প্রবল রবে চিৎকার করে বললেন, “ ‘পতন হল! বিশাল ব্যাবিলনের পতন হল!’ সে হয়ে উঠেছিল ভূতপ্রেতদের গৃহ, সমস্ত মন্দ-আত্মার লুকোনোর স্থান, প্রত্যেক অশুচি পাখির এক আস্তানা। প্রত্যেক অশুচি ও ঘৃণ্য পশুর এক আস্তানা।

[3] কারণ সমস্ত জাতি তার ব্যভিচারের উন্মত্তকারী সুরা পান করেছে। পৃথিবীর রাজারা তার সঙ্গে করেছে ব্যভিচার, আবার পৃথিবীর বণিকেরা তার বিলাসিতার প্রাচুর্যে হয়েছে ধনসমৃদ্ধ।”

[4] তারপর আমি স্বর্গ থেকে শুনলাম অন্য এক কণ্ঠস্বর: “আমার প্রজারা, ওর মধ্য থেকে বের হয়ে এসো, যেন তোমরা তার পাপসকলের অংশীদার না হও, যেন তার কোনো বিপর্যয় তোমাদের প্রতি না ঘটে;

[5] কারণ তার পাপগুলি আকাশ পর্যন্ত স্তূপীকৃত হয়েছে; আর ঈশ্বর তার সব অপরাধ স্মরণ করেছেন।

[6] সে যেমন করেছে, তারও প্রতি ফিরে সেইরকমই করো; তার কৃতকর্মের দ্বিগুণ প্রতিফল তাকে দাও। তার নিজের পানপাত্রেই তার জন্য মিশ্রিত করো দ্বিগুণ পানীয়।

[7] সে যত আত্মগরিমা ও বিলাসিতা করত, সেই পরিমাণে তাকে নিগ্রহ করো ও কষ্টযন্ত্রণা দাও। সে তার মনে মনে দম্ভ করে, ‘আমি রানির মতো উপবিষ্ট, আমি বিধবা নই, আর আমি কখনও শোক-বিলাপ করব না।’

[8] এই কারণে একই দিনে তার সমস্ত বিপর্যয়, মৃত্যু, শোক-বিলাপ ও দুর্ভিক্ষ, তার উপরে এসে পড়বে। আগুন তাকে গ্রাস করবে, কারণ তার বিচারকর্তা প্রভু ঈশ্বর, শক্তিমান।

[9] “যখন পৃথিবীর রাজারা, যারা তার সঙ্গে ব্যভিচার করেছিল ও তার বিলাসিতায় অংশগ্রহণ করেছিল, তারা তার দহনের ধোঁয়া দেখবে, তারা তার জন্য কাঁদবে ও শোক-বিলাপ করবে।

[10] তার যন্ত্রণাভোগে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তারা দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে ও আর্তনাদ করে বলবে, “ ‘হায়! হায় সেই মহানগরী, ও ব্যাবিলন, পরাক্রান্ত নগরী! এক ঘণ্টার মধ্যেই তোমার সর্বনাশ উপস্থিত হল।’

[11] “পৃথিবীর বণিকেরা তার জন্য ক্রন্দন ও বিলাপ করবে, কারণ কেউই আর তাদের বাণিজ্যিক-পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে না।

[12] সেই বাণিজ্যিক-পণ্যসামগ্রী হল সোনা, রুপো, মণিমাণিক্য ও মুক্তো, মিহি মসিনার, বেগুনি, সিল্ক ও লাল রঙের পোশাক; সব ধরনের চন্দনকাঠ ও হাতির দাঁত, মূল্যবান কাঠ, পিতল, লোহা ও মার্বেল পাথরের তৈরি সমস্ত ধরনের দ্রব্য;

[13] দারুচিনি ও মশলা, সুগন্ধি ধূপ, কুন্দুরু ও গন্ধরস, সুরা ও জলপাই তেল, সূক্ষ্ম ময়দা ও গম, গবাদি পশুপাল ও মেষ, অশ্ব ও রথ, মানুষের শরীর ও প্রাণ।

[14] “আর তারা বলবে, ‘যে ফলের তুমি আকাঙ্ক্ষা করতে, তা তোমার হাতছাড়া হয়ে গেছে। তোমার সমস্ত ঐশ্বর্য ও সমারোহ অন্তর্ধান করেছে, আর কখনও সেগুলি ফিরে পাওয়া যাবে না।’

[15] যে বণিকেরা এই সমস্ত পণ্য বিক্রয় করত ও তার কাছ থেকে তাদের ঐশ্বর্য লাভ করত, তারা তার যন্ত্রণায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে। তারা কাঁদবে ও হাহাকার করবে

[16] এবং চিৎকার করে বলে উঠবে, “ ‘হায়! হায়! সেই মহানগরী, সে মিহি মসিনার, বেগুনি ও লাল রঙের পোশাকে সজ্জিত ছিল, সে মণ্ডিত ছিল সোনা, মণিমাণিক্য ও মুক্তায়!

[17] এক ঘণ্টায় এই বিপুল ঐশ্বর্য ধ্বংস হয়ে গেল!’ “আর সমুদ্রের প্রত্যেক নাবিক, জলপথযাত্রী, মাল্লারা ও সমুদ্র থেকে যারা তাদের জীবিকা অর্জন করে, তারা সবাই দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

[18] তারা যখন তার দহনের ধোঁয়া দেখবে, তারা চিৎকার করে বলবে, ‘এই মহানগরীর সমতুল্য আর কোনও নগর কি ছিল?’

[19] তারা তাদের মাথায় ধুলো ছড়াবে এবং ক্রন্দন ও বিলাপ করতে করতে হাহাকার করে বলবে: “হায়! হায়! হে মহানগরী, তারা কোথায়, যাদের জাহাজ সমুদ্রে ছিল, যারা তার ঐশ্বর্যের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছিল! এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে ধ্বংস করা হল!

[20] “হে স্বর্গ, তার সম্পর্কে উল্লসিত হও! সন্তজনেরা ও প্রেরিতশিষ্যেরা এবং সব ভাববাদী, তোমরা আনন্দ করো! কারণ সে তোমাদের প্রতি যে-রকম আচরণ করেছে, ঈশ্বর তেমনই তার বিচার করেছেন।”

[21] পরে এক শক্তিমান স্বর্গদূত বড় জাঁতার মতো বিশাল এক পাথর তুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন ও বললেন: “এধরনের কঠোরতার সঙ্গে মহানগরী ব্যাবিলনকে নিক্ষিপ্ত করা হবে, তার সন্ধান আর কখনও পাওয়া যাবে না।

[22] বীণাবাদক ও সঙ্গীতজ্ঞদের গানবাজনা, বাঁশি-বাদক ও তূরীবাদকদের ধ্বনি, আর শোনা যাবে না, কোনও বাণিজ্যের কোনো শ্রমিক তোমার মধ্যে আর পাওয়া যাবে না, কোনো জাঁতার শব্দ আর কখনও তোমার মধ্যে যাবে না শোনা।

[23] প্রদীপের শিখা তোমার মধ্যে আর কখনও করবে না আলো বিকিরণ। বর ও কনের রব, তোমার মধ্যে শোনা যাবে না, আর কখনও। তোমার বণিকেরা ছিল জগতের সব মহৎ ব্যক্তি। তোমার তন্ত্রমন্ত্রের মায়ায় জাতিসকল চালিত হয়েছিল বিপথে।

[24] তার মধ্যে পাওয়া গিয়েছে ভাববাদীদের ও সন্তজনেদের এবং যতজন পৃথিবীতে নিহত হয়েছে, তাদের সকলের রক্ত।”

প্রকাশিত বাক্য — Chapters