[1] “তোমরা অপরকে বিচার কোরো না, নইলে তোমাদেরও বিচার করা হবে।
[2] কারণ যেভাবে তোমরা অপরের বিচার করবে, সেভাবেই তোমাদের বিচার করা হবে এবং যে মানদণ্ডে তোমরা পরিমাপ করবে, সেই একই মানদণ্ডে তোমাদেরও পরিমাপ করা হবে।
[3] “তোমার ভাইয়ের চোখে যে কাঠের গুঁড়ো রয়েছে, কেবলমাত্র সেটিই দেখছ, অথচ তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ রয়েছে, তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ না কেন?
[4] তুমি কী করে তোমার ভাইকে বলতে পারো, ‘এসো, তোমার চোখ থেকে কাঠের গুঁড়োটি বের করে দিই,’ যখন তোমার নিজের চোখেই সবসময় কড়িকাঠ রয়েছে?
[5] ওহে ভণ্ড, প্রথমে নিজের চোখ থেকে কড়িকাঠটি বের করো, তাহলেই তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে কাঠের গুঁড়োটি বের করার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
[6] “পবিত্র বস্তু কুকুরদের দিয়ো না; তোমাদের মুক্তোগুলি শূকরদের সামনে ছড়িয়ো না, যদি তা করো, তারা হয়তো সেগুলি পদদলিত করবে ও ফিরে তোমাদের ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করবে।
[7] “চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ করো, তোমরা পাবে; কড়া নাড়ো, তোমাদের জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হবে।
[8] কারণ যে চায়, সে গ্রহণ করে; যে খোঁজ করে, সে সন্ধান পায়; আর যে কড়া নাড়ে, তার জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হয়।
[9] “তোমাদের মধ্যে কে তার ছেলে রুটি চাইলে, তাকে পাথর দেবে?
[10] অথবা, মাছ চাইলে তাকে সাপ দেবে?
[11] তোমরা মন্দ প্রকৃতির হয়েও যদি নিজেদের সন্তানদের ভালো ভালো উপহার দিতে জানো, তাহলে যারা তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার কাছে চায়, তাদের তিনি আরও কত না উৎকৃষ্ট সব উপহার নিশ্চিতরূপে দান করবেন?
[12] তাই সব বিষয়ে, তোমরা অপরের কাছ থেকে যেরূপ ব্যবহার পেতে চাও, তাদের প্রতি তোমরাও সেরূপ ব্যবহার কোরো। কারণ এই হল বিধান ও ভাববাদীদের শিক্ষার মূল বিষয়।
[13] “সংকীর্ণ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করো, কারণ প্রশস্ত দ্বার ও সুবিস্তৃত পথ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এবং বহু মানুষ তা দিয়ে প্রবেশ করে।
[14] কিন্তু জীবনে প্রবেশ করার দ্বার সংকীর্ণ ও পথ দুর্গম, আর খুব কম লোকেই তার সন্ধান পায়।
[15] “ভণ্ড ভাববাদীদের থেকে সাবধান। তারা মেষের ছদ্মবেশে তোমাদের কাছে আসে, কিন্তু অন্তরে তারা হিংস্র নেকড়ের মতো।
[16] তাদের ফল দ্বারাই তোমরা তাদের চিনতে পারবে। লোকে কি কাঁটাঝোপ থেকে আঙুর, বা শিয়ালকাঁটা থেকে ডুমুরফল পায়?
[17] একইভাবে, প্রত্যেক ভালো গাছে ভালো ফল ধরে, কিন্তু মন্দ গাছে মন্দ ফল ধরে।
[18] কোনো ভালো গাছে মন্দ ফল ধরতে পারে না এবং কোনো মন্দ গাছে ভালো ফল ধরতে পারে না।
[19] যে গাছে ভালো ফল ধরে না, সেই গাছ কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়।
[20] এভাবে, তাদের ফল দ্বারাই তোমরা তাদের চিনতে পারবে।
[21] “যারা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’ বলে, তারা সবাই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না; কিন্তু যে আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করবে, সেই প্রবেশ করতে পারবে।
[22] সেদিন, অনেকে আমাকে বলবে, ‘প্রভু, প্রভু; আমরা কি আপনার নামে ভবিষ্যদ্বাণী করিনি? আপনার নামে কি ভূত তাড়াইনি ও বহু অলৌকিক কাজ করিনি?’
[23] তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব, ‘আমি তোমাদের কোনোকালেও জানতাম না। দুষ্টের দল, আমার সামনে থেকে দূর হও!’
[24] “অতএব, যে আমার এসব বাক্য শুনে পালন করে, সে এমন এক বুদ্ধিমান লোকের মতো, যে পাথরের উপরে তার গৃহ নির্মাণ করল।
[25] পরে বৃষ্টি নামল, বন্যা এল, ঝড় বইল ও সেই গৃহে আঘাত করল; তবুও তার পতন হল না, কারণ পাথরের উপরে তার ভিত্তিমূল প্রতিষ্ঠিত ছিল।
[26] কিন্তু যে কেউ আমার এসব বাক্য শুনে পালন না করে, সে এমন এক মূর্খ মানুষের মতো, যে বালির উপরে তার গৃহ নির্মাণ করল।
[27] পরে বৃষ্টি নামল, বন্যা এল, ঝড় বইল ও সেই গৃহে আঘাত করল, আর তার ভয়ংকর পতন হল।”
[28] যীশু যখন এসব বিষয় বলা শেষ করলেন তখন লোকেরা তাঁর শিক্ষায় আশ্চর্য হয়ে গেল।
[29] কারণ তিনি শাস্ত্রবিদদের মতো নয়, কিন্তু একজন ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির মতোই শিক্ষা দিলেন।